গল্পঃ ভালোবাসার বন্ধন
সৈকত তার বন্ধুদের নিয়ে ক্যান্টিনে বসে আছে। তাদের আজকের মুল আলোচনায় রয়েছে তাদের ই এক বন্ধু। নাম তৌসিফ। দূর্ভাগ্যবশত সে আজ তার ক্রাশ কে ৭ মাস ধরে পটিয়ে অবশেষে গার্লফ্রেন্ড বানাতে সক্ষম হয়েছে।
-‘ওরে ভাই, মেয়ে পটানো যে কি কঠিন কাজ তা আমি আজ বুঝলাম। ৭ মাস লাগল একজনেরে পটাইতে। আর অন্যান্যরা ৩ মাসে ৬ টা রে নিয়া ঘুরে।’ (তৌসিফ)
-‘কথাটা ভুল বলিস নাই। আমি ত এখনো কথাই বলে উঠতে পারি নাই। পটানো তো অনেক পরের ব্যাপার। খালি ৩ মাস ধরে চোখ ভরে দেখে যাচ্ছি।’ (হাসিব)
-‘তুমি যেরকম তোমার ভাগ্য ও সেই রকম। মেয়ে তো পটাবি। বাঘ-ভাল্লুক তো আর না। তাতেই এতো সময় লাগালে তারে নিয়ে জীবন কাটাবি কখন?’ (সৈকত)
-‘তুমি বক্তৃতা দেওয়া বন্ধ করো। এত বক্তৃতা দেও, তা নিজের ভাগ্যে এখনো কেউ জোটে নাই কেন?’ (হাসিব)
-‘ভাইয়া তুমি জানো না, কোচেরা কখনো খেলে না। আর যারা জীবনে কম খেলে কোচ হয় তারাই বেশি সাক্সেস্ফুল হয়।’ (সৈকত)
-‘তো তুই কি বলতে চাস, মেয়ে পটানো সহজ কাজ?’ (তৌসিফ)
-‘না সহজ না। একদম সহজ কাজ। বা হাতের ময়লা।’ (সৈকত)
-‘তাই নাকি? পারলে আমাকে পটিয়ে দেখান’ (অধরা)
কথার মাঝখানে এরকম একজন তরুণির আগমনে সবাই একটু হকচকিয়ে গেল। সেটাই স্বাভাবিক। তাও যে সে তরুণি নয়। ভার্সিটির প্রায় সব বর্ষের ছেলেদের ক্রাশ। বড়লোক বাপের একমাত্র মেয়ে।
সৈকত পিছন ফিরে বলল,‘আমাকে বলছেন?’
-‘জ্বি, আপনাকেই বলছি।’
-‘কথাটা আমাকেই বললেন কেনো?’
-‘আপনিই ত একটূ আগে বলছিলেন যে মেইয়ে পটানো কোনো ব্যাপার ই না। তাই বললাম আমাকে একটূ পটিয়ে দেখান। আমার অনেক ইচ্ছা আমাকে কেউ পটিয়ে দেখাক।’
-‘ওহ আচ্ছা।’
-‘কিসের আচ্ছা? হয় পটিয়ে দেখান না হলে কথা ফিরিয়ে নেন।’
-‘ভেবে দেখি। কালকে জানাব।’
-‘কখন?’
-‘বিকাল ৫ টায় এইখানে।’
-‘আচ্ছা ঠিক আছে।’
অধরা চলে যাওয়ার পর হাসিব বলে উঠল, ‘কি করলি ভাই? সিনিয়ার ভাই রা তাই ওকে পটাতে পারে না। আর তুই? ও কিন্তু ওর নামের মতই অধরা।’
-‘এই জন্যে তুই তোর ক্রাশ কে এখনো দেখেই গেলি। কথা আর বলে উঠতে পারলি না।’
পরের দিন বিকাল ৫ টায় সৈকত ভালো একটা জামা পরে আসল। দেখল বিশাল একটা কালো গাড়ি থেকে নামল অধরা। তাকে আজ সত্যি ই অনেক বেশি সুন্দর লাগছিল। নীল অরঙ্গের শাড়ি তাকে সেই লেভেলের মানিয়েছে।
-‘কি হার মানার প্রিপারাশন নিয়ে এসেছেন?’
-‘সর্যি, আমাকে বললেন?’
-‘এখানে তো আমি আর আপনারা ছাড়া আর কেউ নাই।’
-‘ওহ আচ্ছা।’
-‘তো আপনার সিদ্ধান্ত কি?’
-‘আমি রাজি। কিন্তু একটা শর্ত।’
-‘বলুন রাখার চেষ্টা করব।’
-‘আমি যদি সত্যি আপনাকে পটাতে পারি সেটা আপনার স্বীকার করে নিতে হবে। চ্যালেঞ্জে হেরে যাবেন আর বাপের অনেক টাকা আছে বলে অস্বীকার করতে পারবেন না। আর এই স্বীকারোক্তি আপনাকে আমার ঐ ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে দিতে হবে।’
-‘আগে পটিয়ে তো দেখান।’
-‘আপনি রাজি কি না বলুন?’
-‘স্মার্ট। আচ্ছা যান রাজি। আপনি যদি সত্যিই আমাকে আপনার প্রেমে ফেলতে পারেন তবে আমি তা আপনার ঐ ফ্রেন্ড সার্কেলের সামনে স্বীকার করব। কোনো চালাকি করব না।’
-‘গুড।’
-‘তো আপনার কাজ কি এখন থেকেই শুরু?’
-‘এতক্ষণ ধরে যা যা বললাম সেগুলাও এই কাজের মধ্যেই পড়ে।’
-‘কি বললেন?’
-‘আমরা একটু হাটি?’
-‘শুরুতেই তুমি? বাহ।’
-‘আপন যখন করতেই হবে। শুরুতেই করি’
-‘ঠিক আছে। চলো।’
রাত ১টা ৩০মিনিট। অধরার ফোন বেযে উঠল।
-হ্যালো! (অধরা)
-কেমন আছো? (সৈকত)
-ভালো। কিন্তু আপনি কে?
-আপাতত বিশাল জলরাশি।
-মানে?
-মানে কিছু না। কথাটার সংক্ষিপ্ত রূপ আমার নাম।
-সৈকত?(বিষ্ময়ের সুরে)
-জ্বি। ঠিক ধরেছো।
-নাম্বার কই পাইলা?
-খুব সহজ প্রশ্ন। তাসনিম, তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড দিয়েছে।
-ওহ। এতো রাতে?
-প্রেমিকেরা তো রাতেই কথা বলে।
-আচ্ছা। তা এখানে প্রেমিক কে?
-লিংগের বিচারে যেহেতু আমি পুরুষ, তাই আমিই এখানে প্রেমিক।
-বাহ! কি চুলচেরা বিশ্লেষণ। আমি মুগ্ধ।
-ধন্যবাদ। কি করছো?
-রাতে মানুষ কি করে?
-রাতে মানুষ তো অনেক কিছুই করে।
-অনেক কিছু? কিরকম?
-যেমন ধরো, ভালো লোকেরা ঘুমায়, মাত্রাতিরক্ত আতেল রা পড়াশুনা, আমাদের মতো কাপল রা প্রেম, আর বিবাহিত দের কথা আলাদা।
-কেনো? বিবাহিতরা আবার কি করল?
-অদের কোনো ঠিক নাই। যেদিন ঝগড়া করে সেদিন না খেয়ে রাত্রি যাপন করে। আর যেদিন মন অনেক ভালো থাকে সেদিন অনেক কিছুই করে। সব বলা ঠিক না।
-বাহ বাহ। তোমার কি সুন্দর দর্শন।
-আবারো ধন্যবাদ।কি খেয়েছ রাতে?
-তোমাকে বলব কেনো?
-কেনো আমি কি করলাম?
-অনেক কিছু করছ। রাখি কাল সকালে ক্লাস আছে।
-আচ্ছা যাও। আপাতত আমার তরফ থেকে ১০০ কিস পাঠালাম। সেটা খেয়ে নিও।
-বেয়াদব।
পরের দিন সৈকত ক্যান্টিনে বসা। সিগারেট টানছিল। পেছন থেকে জোরে কলার টেনে অধরা তাকে একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে গেল।
-কলার ধরে টানছো কেনো?
-আরেহ রাখ তোর কলার। কাল রাতে কি বললি?
-একি আবার তুই তোকারি করো কেনো?
-ভালো হয়েছে। কাল রাতে যা বলছো আবার রিপিট করো।
-কাল রাতে তো অনেক কথাই বলছি। তুমি কোন্টার কথা বলতেছো?
-বুঝতাসো না?
-না। কোন কথা তোমারে এরকম চিন্তায় ফেলল বলোতো?
-তাড়াতাড়ি বলো।
-আরেহ আমার তো মনে পড়ছে না। এক কাজ করো তুমিই বলে ফেল। তোমার যেহেতু মনে আছে।
-কিস করার কথা বলসিল কে?
-কি? আমি কিস করার কথা বলসি? কি বলছিলাম পুরাটা বলো। আমি ব্যাপারটা ক্লিয়ার করে দিচ্ছি।
-আমার তরফ থেকে ১০০ টা কিস রইল।
-সত্যি?
-হ্যা তুমি এটাই বলছিলা।
-আচ্ছা যাই হোক। তুমি ও বললে।
-আমি কই বললাম?
-এই যে আমাকে শুনাতে গিয়ে আমাকে বলে ফেললে।
-তাই নাকি অসভ্য।
সৈকত দৌড় দিল। অধরা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকল। আর ভাবল তার সাথে এটা কি হয়ে গেল? প্রায় প্রতিরাতেই অধরা আর সৈকতের কথা হতো। তাদের সম্পর্ক অনেক গভীরে যেতে লাগল।এখন আর তাদের নিয়মিত ঝগড়া হয় না। কিন্তু সেই প্রেম টাও এখনো শুরু হয় নাই।
-হ্যালো!
-হ্যা, সৈকত বলো।
-কাল তুমি ফ্রি?
-হ্যা, কেনো বলোতো?
-দেখা করতে পারবে?
-পারব। জায়গা আর সময় বলে দিও। চলে আসব।
সৈকত জায়গার নাম আর সময় লিখে পাঠিয়ে দিল।
সৈকত একটা নদীর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। জায়গাটা শহর থেকে অনেকটাই বাহিরে। প্রায় ৩০ মিনিট পর সৈকত অধরার গাড়ি দেখতে পেল। একটা কালো শাড়ি। গায়ে সাদা চাদর। খোলা চুল। হালকা সাজ। সৈকত যেন আজ সত্যিই অধরার প্রেমে পড়ে গেল। স্বর্গের কোনো এক দূতের মতো লাগছিল অধরাকে।
-কি দেখছো?
-হ্যা? না কিছু না। তোমাকে দেখছিলাম।
-তাই? কেনো আজ কি কালো শাড়িতে অনেক খারাপ লাগছে?
-খারাপ? হুহ! কালো শাড়ি কি আর পরীর রূপ কে ঢাকতে পারে? সে তো আলো তেই সীমাবদ্ধ।
-হয়েছে। এতো দূরে ডেকেছ কেনো? শহরে কি জায়গার অভাব হয়েছে?
-না, এই ১ মাসে শহরের অনেক জায়গায় ঘুরলাম। তাই বাহিরে আসছি।
-ভালো। কিন্তু জায়গাটা অনেক সুন্দর।
-জানি। চলো।
নদীর পাড়ে দুজন বসা। হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। শীতের সময় ঠান্ডা লাগার কথা। অধরা তার চাদর খুলে সৈকতের গায়ে দিতে গেল।
-আমি ঠিক আছি। আমার লাগবেনা। তুমি রাখ।
-ঠান্ডা লাগতে পারে।
-ওটা আমি গায়ে দিলে তোমার ঠান্ডা লাগবে সেটা আরো বেশি খারাপ আমার জন্যে।
সৈকত উঠে গেল।
-কোথায় যাচ্ছ?
-আসছি। তুমি বসো।
প্রায় ৪০ মিনিট হয়ে গেল। সৈকত এলো না। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। অধরার চিন্তা হয়া শুরু হলো। নির্জন এলাকা। যদিও তার গাড়ি আছে। সে সাধারণত বাড়ির বাইরে রাতে কম থাকে। অধরা সৈকত কে ফোন দিল। ধরল না। ১০ মিনিট আরো যাওয়ার পর অধরা উঠে যেতে লাগল। নির্জন এলাকায় সুন্দরী মেয়ে থাকলে যা হয়। কিছু ছেলে অধরার পিছু নিতে শুরু করল। অধরা সেটা বুঝতে পারল।সে একটু জোরে দৌড়ানো শুরু করল। অন্ধকারে না দেখতে পেরে একটা মানুষের সাথে ধাক্কা খেল। সে সৈকত। তার পুরা দেহ খাবারের সসে লাল হয়ে গেল। সাদা পাঞ্জাবি টা বিভিন্ন রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে উঠল।
-একি তুমি দৌড়াচ্ছ কেন?
-হারামজাদা! আমাকে একা রেখে কোথায় গেসিলা?
-খাবার আনতে।
-খাবারের গুষ্টী কিলাই। বলে যেতে পারতে না?
-সস্তা খাবার শুনে যদি না খেতে চাইতে।
-সস্তা খাবার কি মানুষে খায় না?
এই বলেই অধরা সৈকত কে জড়িয়ে ধরল। প্রথমবারের মতো সৈকত কোনো নারীর স্পর্শ পেল। সে অনুভব করল অধরা তাকে আগের থেকেও বেশি শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। সেটা ছাড়ানোর শক্তি হয়ত তার আছে। কিন্তু সে ছাড়াল না। কিছুক্ষণ পর অধরা তাকে ছেড়া দিল। অধরার সাদা চাদর টা পাঞ্জাবির উপর পড়া বিভিন্ন রঙ লেগে একটু খারাপ হয়ে গেছে।
-খাবার আনতে এতো সময় লাগে?
-তোমার জন্যে আনব। ভালো ভাবে না আনলে কি আমার ভালো লাগবে?
-হয়েছে চলো বাসায় যাব।
-আচ্ছা চলো।
দুজন একসাথে গাড়িতে করে বাসায় যাচ্ছে। গাড়িতে তারা তাদের খাবার খেয়ে নিল। একে অপ্র কে খাইয়ে দিল।আগামীকাল অধরার জন্মদিন। সৈকত চিন্তা করল রাত ১২ টায় সে অধরা কে তার বাসার সামনে গিয়ে প্রপোজ করবে। তাতে অধরা রাজি হলে সৈকত জিতে গেল নাহলে হেরে যাবে।
অধরা ৭ টার সময় সৈকত কে নামিয়ে দিয়ে নিজে বাসায় গেল। রাত ১১টা ৫৫মিনিটে সৈকত অধরাকে ফোন দিল।
-খেয়েছো?
-হ্যা, তুমি?
-একটু বাসার নিচে আসতে পারবে?
-কেনো?
-এমনি। একটু আসো না।
-আচ্ছা দাঁড়াও।
অধরা আসল।সৈকত কে বলল,‘একটু আগে না দেখা করলাম। আবার কি?’
-একটূ আগে কই? ৫ ঘন্টা আগে।
-যাই হোক। কি হয়েছে বলো?
-কিছু না। কয়টা বাজে?
অধরা ফোন দেখে বলল, ১২টা। সৈকত গায়ের জ্যাকেট টা খুলে ফেলল। তার ভেতর থেকে একটা ফুলের তোড়া বের করে অধরার দিকে দিয়ে বলল,‘শুভ জন্মদিন’
-ধন্যবাদ। কিন্তু আমি তো তোমাকে কখনো আমার জন্মদিনের কথা বলি নাই। তুমি জানলে কিভাবে?
-যার সাথে প্রেম করব তার জন্মদিন মনে না রাখলে আমি আবার কেমন বাংগালি? যাই হোক আমি তোমার মতো অতটা বড়লোক মানুষ না। তাই তেমন বড় আয়োজন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় নাই। শুধু এই এক বক্স চকোলেট আর এই একটা ফুলের তোড়া।
-অসংখ্য ধন্যবাদ। চা খাবে? রাস্তার পাশে একটা ভালো চায়ের দোকান আছে।
-আজ না। পরে একদিন। ভালো সময় গুলা দেরিতে পাওয়াই ভালো।
-আচ্ছা।
অধরা উপরে উঠে গেল। চকোলেটের বক্স খুলতেই ভেতরে তার প্রিয় চকলেটগুলার সাথে একটা কাগজ দেখতে পেল। কাগজ টা সে খুলল। তাতে সৈকত কিছু একটা লিখে দিয়েছে। সে পড়া শুরু করল-
প্রিয় অধরা,
আমরা প্রায় ১ মাসের বেশি সময় ধরে একসাথে রয়েছি। তোমার সাথে আমার একটা ডিল হয়েছিল। আমার মনে হয় আমি সেটা পেরেছি। তাই তোমার জন্মদিনের মতো একয়াট পবিত্র দিনে আমি তোমাকে আমার প্রেমের কথা জানালাম। আমি যদি সক্ষম হয়ে থাকি তোমাকে আমার প্রতি আকৃষ্ট করতে করতে তাহলে আমি কাল ৪টায় আমার সেই ফ্রেন্ড সার্কেল নিয়ে যেখানে আমাদের দেখা হয়েছিল সেখানে থাকব। সেই খানে তুমি স্বীকার করে নিবে। আর এক্যদি আমি ব্যার্থ হয়ে থাকি, তাহলেও আমি সেখানে থাকব। তুমি এসে আমাকে বলবে যে সৈকত তুমি ব্যর্থ। আমি আমার কথা ফিরিয়ে নিব।
ইতি
বিশাল জলরাশি(সৈকত)
অধরা সম্পূর্ণ লেখাটা পড়ল। সে সারারাত চিন্তা করল। পরদিন সে আর ভার্সিটি গেল না। বিকাল ৩টা ৩০ মীণীতে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল সৈকতের সাথে দেখা করতে। দেখল সৈকত ঠিকই তার ফ্রেন্ড সার্কেল নিয়ে বসে আছে। অধরা সৈকতের কাছে গেল।
-সৈকত!
-আরেহ তুমি এসে গেছ!(পিছন ফিরে)
-আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।
-ওহ! আমি জানি তুমি কি বলবে। থাক তোমাকে আর কষ্ট করে বলতে হবে না। আমি আমার কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি। হাসিব, আমি সেদিন বলেছিলাম না………
অধরা সৈকত কে কথা শেষ করতে দিল না। জড়িয়ে ধরল সকলের সামনে।
-আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি মেনে নিলাম তোমাকে।
সৈকত অনেক টাই স্তব্ধ। কিন্তু তার ঠোটের মাঝে হালকা হাসি দেখা যাচ্ছে।
সৈকত অধরা কে সরিয়ে নিল।
-সত্যি?
-হুম।
এবার সৈকত অধরা কে জড়িয়ে ধরল।
২ দিন পার হইয়ে গেল। সৈকত অধরাকে ফোন দিল।
-হ্যা, সৈকত বলো
-ঘুমিয়ে গেছো?
-না কেনো?
-বাসার নিচে আসো। কথা আছে।
-কথা আছে তো ফোনে বলো।
-সামনা সামনি বলতে হবে।
-আচ্ছা আসছি।
অধরা নিচে নামল। সৈকত তাকে বলল,
-চলো চা খেয়ে আসি।
-কোথা থেকে?
-সেই রাস্তার পাশের দোকান থেকে।
-ওহ চলো।
সৈকত দোকানদারকে ২টা চা দিতে বলল। চা খেতে খেতে সৈকত বলল,
-অধরা, আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।
-বলো।
-তুমি মন দিয়ে শুনবা। মাঝখানে কোনো কথা বলবানা।
-আচ্ছা।
-আমি তোমাকে অনেক বড় একটা মিথ্যা কথা বলেছি। আসলে ঠিক মিথ্যা কথা না। মিথ্যা কাজ করেছি। তুমি আমাকে বলেছিলে তোমাকে আমার প্রেমে ফেলতে। হয়ত আমি সেটা পেরেছি। কিন্তু সত্য হলো আমি তোমাকে ভালোবাসি না।
-কী?
-আমার কথা এখনো শেষ হয় নাই। তুমি দেখতে অনেক সুন্দর, স্মার্ট, বড়লোক। ভার্সিটির বড় ভাইএরাও তোমাকে পেতে চায়। কিন্তু তুমি আমাকে একটা ডিল দিয়েছিলে। আমার তোমার প্রতি কোনো আকাঙ্ক্ষা কোনোদিনই ছিল না। আমি শুধু তোমার কথা রাখতে এই কাজ টা করেছি। আমি জানি না এই ঘটনার পর আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে কিনা। তবুও আমি ভেবেছিলাম আমি হয়ত হেরে যাব তাই আমি তোমাকে ওই মিথ্যা চিঠি টা লিখেছিলাম। কিন্তু দেখলাম তুমি আমার প্রেমে পড়ে গেছো। তাই ঘটনা বেশি দূরে না নিয়ে আমি এখানেই সব শেষ করে দিতে চাই। তুমি চাইলে কিছু বলতে পার।
সৈকত লক্ষ্য করল অধরা কান্না শুরু করে দিয়েছি। কেনো জানিনা সৈকতের নিজের মধ্যে একটা অপরাধ বোধ কাজ করা শুরু করল। কিন্তু সে তো সত্যই অধরা কে কখনো ভালোবাসে নাই। সে শুধু একটা ডিলে ছিল তাই সে অধরার সাথে এই কাজ টা করেছে। অধরা এবার মূখ খুলল,
-তুমি যা বলছো ভেবে বলছো?
-হ্যা।
-আচ্ছা আমাকে ভালো না বাসার কোনো কারণ?
-জানি না। আমি তমাকে কোনোদিনই ভালোবাসি নাই। প্রেমে পড়া আর ভালোবাসা তো একই জিনিস না। আমি তোমাকে আমার প্রেমে ফেলেছি। কিন্তু নিজে তো তোমার প্রেমে পড়ি নাই, ভালোবাসি নাই।
অনেক দিন সৈকত আর অধরার কোনো যোগাযোগ নাই। অধরা এর মধ্যে সৈকত কে কোনো ফোনও দেয় নাই। সৈকত ও দেয় নাই। একদিন সৈকত রোড এক্সিডেন্ট করে। বা হাত ভেংগে যায়। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় সৈকত অধরা কে একদিন দেখতে চায়। অধরা ছুটে আসে। ডাক্তারের পরামর্শ অনু্যায়ী সে সবসময় সৈকতের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যায়। একদিন সৈকত জিজ্ঞেস করল,
-আচ্ছা তুমি এই যে এই কয়দিন বাড়ি যাচ্ছ না, বাসায় কি বলে এসেছো?
-তুমি আমাকে কি মনে করো?
-কি মনে করব? একজন অত্যন্ত ভালো বন্ধু।
-হাহ(হাসি)
-কি হলো হাসছো কেনো?
-তোমার কি মনে হয় আমিও তোমার মতো তোমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেছি?
-বলতে পারব না। তবে অনেক মেয়েই করে। আরও তুমি বড়লোক মেয়ে, তোমাকেই এগুলা মানায়।
-ওহ। এই তাহলে আমার প্রতি তোমার ধারণা।আচ্ছা তাহলে তো বলতে হয় আমি বাসায় বলেছি আমি শ্যুটিং সেটে যাচ্ছি।
-হাহ। মজা করোনা। আসল জিনিস বলো।
-বাসায় সবাই তোমার কথা জানত সৈকত। তুমি যেদিন আমাকে সব সত্যি কথা বলে দিলে তার দুই দিন পরে তোমার মায়ের সাথে আমার মা কথা বলতে যেত।
-কেনো?
-অভিনয় করতে গিয়ে কি কমনসেন্সও হারিয়েছো?
-কেনো?
-মা বিয়ের কথা বলতে যাচ্ছিল। আমি পরে বলেছি আমি এখন বিয়ে করব না।
অধরা চলে যাচ্ছিল।
-সেটা কখনোই সম্ভব না, অধরা।
-কোনটা?
-তোমার আর আমার বিয়ে।
-কেনো? তোমার কি এখনো সবকিছু অভিনয় মনে হচ্ছে?
-বাস্তবতাকে ভালোবাসা দিয়ে ঢাকা যায় না।
-কোনটা বাস্তবতা?
-তুমি খুব ভাল করেই জানো আমি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় আমার মাথায় একটা কাজের চিন্তা ঘুরে যাতে আমি আমার পরিবারকে সাপোর্ট করতে পারি। সেখানে বিয়ে করাটাই অনেক বড় কিছু। আর তুমি যে পরিবার থেকে উঠে এসেছো সেই মাত্রার জীবন তুমি আমাকে ভালবেসে বা বিয়ে করে পাবে না। এটাই বাস্তবতা। এটা মেনে নেওয়াই উত্তম
-তুমি আসলে অভিনয় টা ভালোই করতে পার। নাহলে এই ২ মাসে আমাকে একটু হলেও চিন্তে। আমি যদি তোমার জীবনের সাথে আমার জীবন নাই মেলাতে পারলাম তাহলে তোমাকে ভালোবাসতে গেলাম কেনো? মেয়েদের ভালোবাসা এতটা নড়বড়ে না। আমি গত ৩ দিন না খাওয়া। এখন নিশ্চই তুমি এটা বল্ববে না যে তোমার পারিবারিক অবস্থা এতোটাই খারাপ যে একটা নতুন মানুষ কে তারা ৪ দিন না খাইয়ে রাখবে।
-সাময়িকতা কখনো কোনো কিছুর পূর্ণ রূপ কে দেখতে দেয় না।
-ঠিক আছে। আমি চলে যাচ্ছি। তবে আমি তোমাকে সত্যই ভালোবেসে ছিলাম। এটা তোমার ব্যর্থতা যে তুমি সেটা বুঝলে না।
অধরা চলে গেল। সৈকত চিন্তা করতে লাগল অধরা কি তাকে সত্যই ভালোবাসে নাকি তার মন পাবার জন্যে শিক্ষা দেবার জন্যে এমন টা করতেসে। যদি সে সত্যি তার সাথে মানিয়ে নিতে না পারবে তাহলে তারা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছিল কেন? কোনো মা তো তার মেয়ের ক্ষতি চাইতে পারবেনা।
৩ দিন পর অধরা কে সৈকত ফোন দিল।
-অধরা!
-বলো।
-বাসার নিচে আসতে পারবা?
-কেনো?
-কথা আছে।
-দু;খিত।
-প্লিজ, একবার। শুধু ২ মিনিটের জন্যে।
-কি বলবে?
-সেটা আসলেই বলি?
অধরা এলো।
-বলো।
-আমি এই ৩ দিন অনেক ভেবেছি। এবং আমার মনে হয়েছে আমি ই ভুল ছিলাম। আমার তোমাকে আরো যথার্থ ভাবে বোঝা দরকার ছিল। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি। এবং আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবেসে আমার পাশে সব সময় থাকবে সে আমি ফুটপাতে থাক্লেও।
-তো?
-I love you
-আমি যদি এখন তোমাকে ফিরিয়ে দেই?
-সেটাই স্বাভাবিক। দিলে দিতে পার। আর আমার মনে হয় তুমি আমাকে ফিরিয়েই দিবে।
-গাধা গাধা ই থাকে।
-মানে?
-তুমি জড়িয়ে ধরবে না আমি?
-কোনটা ভালো হয়?
-অসহ্য।
এই বলে অধরা সৈকত কে জড়িয়ে ধরল। আজ সৈকত সেই নদীর পাড়ের দিনের থেকেও অধরার জড়িয়ে ধরায় অনেক জোর খুজে পেল। কিন্তু পার্থক্য একটাই, সেদিন তার গায়ে এটা ছাড়িয়ে নেবার শক্তি ছিল কিন্তু সাময়িক প্রেমের কারণে সেদিন সে এটা ছাড়িয়ে নিতে পারে নাই। আর আজ ভালোবাসার বন্ধনশক্তি এতোটাই বেশি যে তার এটা ছাড়িয়ে নেবার মত শক্তি টূকুও নাই।
জীবিত থাকুক ভালোবাসা।
ভালো লাগলে আমার ব্লগটি নিয়মিত ভিজিট করবেন..এখানে নিয়মিত ভালোবাসার গল্প ও অন্যান্য গল্প পোষ্ট করা হয়.. আপনাদের গল্পটি কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাবেন...আপনাদের মতামতের আশায় থাকবো...
Key Words:
bangla love story, love story, bangla, facebook love story, love, valobashar romantic premer golpo bangla, romantic valobashar golpo, valobashar koster golpo bangla, bangla, valobashar golpo, valobashar golpo sms, bangla sad valobashar golpo, romantic love story in bengali, valobashar golpo kotha, ভালোবাসার গল্প 2018, ভালোবাসার গল্প কাহিনী, ভালোবাসার গল্প ছবি, ভালোবাসার গল্প 2017, ভালোবাসার গল্প পরতে চাই, ভালোবাসার গল্প সিনেমা, ভালোবাসার গল্প ও কবিতা, ভালোবাসার গল্প পড়তে চাই, bangla love story book, bangla love story facebook, bangla love story kobita, bangla sad love story pdf, bengali love story golpo mp3, bangla love story video, bengali love story poem, bangla love story mp3, বাংলা ভূতের গল্প, ভুত, ভয়ানক ভূতের গল্প ২০১৮, bangla vuter গল্প, ২০১৯ এর ভালোবাসার গল্প, 2019 love story, 2019 best love story, valobasar golp 2019
bangla love story, love story, bangla, facebook love story, love, valobashar romantic premer golpo bangla, romantic valobashar golpo, valobashar koster golpo bangla, bangla, valobashar golpo, valobashar golpo sms, bangla sad valobashar golpo, romantic love story in bengali, valobashar golpo kotha, ভালোবাসার গল্প 2018, ভালোবাসার গল্প কাহিনী, ভালোবাসার গল্প ছবি, ভালোবাসার গল্প 2017, ভালোবাসার গল্প পরতে চাই, ভালোবাসার গল্প সিনেমা, ভালোবাসার গল্প ও কবিতা, ভালোবাসার গল্প পড়তে চাই, bangla love story book, bangla love story facebook, bangla love story kobita, bangla sad love story pdf, bengali love story golpo mp3, bangla love story video, bengali love story poem, bangla love story mp3, বাংলা ভূতের গল্প, ভুত, ভয়ানক ভূতের গল্প ২০১৮, bangla vuter গল্প, ২০১৯ এর ভালোবাসার গল্প, 2019 love story, 2019 best love story, valobasar golp 2019

: