বিষয়ঃ সাধারন প্রশ্নাবলীঃ ইসলাম ও খগেনিজম
লিখেছেনঃ এম ডি আলী
প্রশ্নঃ খগেনিজম আসলে কি ?
উত্তরঃ খগেনিজমকে নাস্তিক ধর্মও বলা হয় । একে সাধারণভাবে বোঝায়, দুনিয়ার সাময়িক সুখের জন্য বা জার্মানির ভিসা পাওয়ার জন্য পরকালের স্রস্টা- নবী রাসুল ইত্যাদি সত্ত্বায় অবিশ্বাস, এই নাস্তিক ধর্ম আসলে মুলত একটি সভ্য সমাজকে কুলসিত করার উপায়।
নাস্তিক ধর্ম - শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “ধারণ করা”। যেহেতু নাস্তিক্য মতবাদ এর অনুসারীরা বুকে ধারন করে তাই এরা মানুক চাই না মানুক নাস্তিকতা একটি ধর্ম । এতে কোন সন্দেহ নাই । এই ধর্মে এমন কিছু নিয়ম নীতি ফলো করা হয় যেখানে যুক্তি এবং বিজ্ঞান দুটিরই অপপ্রয়োগ করা হয় । বিশেষ করে যেহেতু ইসলাম একটি সুন্দর জীবন বিধান আর নাস্তিক জীবন বিধান এর বিপরীত তাই খগেনিজমের অনুসারীরা ইসলামের বিরোধিতা করার জন্যই মুলত নাস্তিক ধর্মের উপর ভরসা করে ।
চুম্বকের ধর্ম যেমন আকর্ষণ করা, মানুষের ধর্ম তেমনি বিশ্বমানবতা, সকল মানুষের প্রতি প্রেম এবং ভালবাসা। ইসলামকে সম্মান করা, এ ছাড়া সকল ধর্মকে সম্মান করা যদি খগেনিজম হত তাহলে এরকম হলে কোন আপত্তি ছিল না। সব মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে ভালবাসলে হয়ত ভাল হত তবে নাস্তিক ধর্মের বাস্তবতা এর বিপরীত । নাস্তিক ধর্মগুলো মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্টত্বের লড়াই আর কার যুক্তি সত্য, কার আর্গুমেন্ট সত্য এই সব কোন্দল সৃষ্টি করে। এইসব লড়াইয়ে এই পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষের জীবন চলে গেছে, অনেক রক্ত ঝরেছে। তাই নাস্তিক ধর্মগুলো মানব ধর্মের এবং মানবতার বিরুদ্ধে।
প্রশ্নঃ ইসলাম মানে কি ? মুসলিম আসলে কে ?
উত্তরঃ ইসলাম হল শান্তির ধর্ম অথবা এমন একটি জীবন বিধান যেখানে আপনি প্রবেশ করলে আপনি অন্তরে প্রশান্তি আর আনন্দের অনুকূলে প্রবেশ করতে পারবেন । ইসলাম আপনাকে ভাল মানুষ হতে শিক্ষা দেয় । জীবনের প্রত্যেক দিকে ইসলাম আপনাকে এমন একটি সমাধান দিবে যেটা আপনি অনুসরন করলে আপনি দুনিয়াতেও সফল হবেন আর পরকালেও সফল হবেন ।
* সুরা বাকারা ২:১৯৫ = তোমরা নিজেদের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না আর মানুষের সাথে ভাল ব্যাবহার করো , নিশ্চয় আল্লাহ্ ভাল ব্যাবহারকারীদের ভালবাসেন । - এই একটি আয়াতই প্রমান করে ইসলাম একটি দারুন জীবন বিধান ।
মুসলিম বলা হয় তাঁদেরকে যারা ইসলাম পালন করে এবং ইসলাম মত নিজের জীবন পরিচালনা করে । একজন মুসলিম মিথ্যা কথা বলে না । একজন মুসলিম কখনো মানুষদের ধোঁকা দিবে না । একজন মুসলিম কখনো সমাজে অন্যায় কাজ করবে না । একজন মুসলিম কখনো নারীদের সাথে নোংরা আচরণ করবে না । একজন মুসলিম কখনো অন্যকে গালি দিবে না । একজন মুসলিম কখনো ফেতনা ফাসাদ সৃষ্টি করবে না ।
* জামে আত তিরমিজি, হাদিসঃ ১৯২২, সহিহ হাদিসঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন করে না তাকে আল্লাহ্ তা‘আলাও দয়া করেন না।
* সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৩৬৮৪, হাসান হাদিসঃ সা’দ বিন উবাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন প্রকারের দান সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ পানি পান করানো।
* জামে আত তিরমিজি, হাদিসঃ ১৯৬৪, হাসান হাদিসঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তি চিন্তাশীল, গম্ভীর ও ভদ্র হয়ে থাকে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি প্রতারক, ধোঁকাবাজ, কৃপণ, নীচ ও অসভ্য হয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ ইসলামের ভিত্তি কি ?
উত্তরঃ ইসলামের ভিত্তি হল সত্যকে মেনে নেওয়ার । সত্যের সাক্ষ্য দেওয়া । সত্যের উপর ইমান আনা । সত্য পথে চলা । যুক্তি প্রমান এবং সঠিক বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করতেও উৎসাহ দেয় ।
* সুরা তাহা ২০:১১৪ = বল হে আমার প্রতিপালক আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো ।
* সুরা বাকারা ২:২১৯ = আল্লাহ্ তোমাদের জন্য আয়াত সমূহ স্পস্থভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করো ।
* সুরা মুহাম্মদ ৪৭:২৪ = তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে না নাকি তাদের অন্তর সমূহ তালাবধ্য ?
* সুরা নাহল ১৬:১২৫ = তুমি তোমার রবের পথে হিকমাহ ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দেও এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক করো ।
প্রশ্নঃ নাস্তিক ধর্মের ভিত্তি কি ?
উত্তরঃ এক কথায় যদি বলি তাহলে এটি একটি অন্ধ বিশ্বাসের নাম । যেখানে যুক্তির পরিবর্তে গোঁজামিল দেয়া হয় বেশি এবং বিজ্ঞানের নাম করে মিথ্যা বিজ্ঞান প্রচার করা হয় । নিরপেক্ষতার লেশ মাত্র নাই এই খগিনিজম ধর্মে ।
প্রশ্নঃ মুসলিমরা এত এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও স্রস্টায় অবিশ্বাস করে না কেন?
উত্তরঃ প্রমাণ থাকলে অবিশ্বাসের প্রশ্নই আসে না। নাস্তিক বিশ্বাসীরা আসলে প্রমান করতে পারে না যে "এই মহাবিশ্ব স্রস্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে" । যেমন আমরা মানি যে, সূর্য আছে । এখানে অবিশ্বাসের কিছু নেই। নাস্তিক বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় তখনই যখন প্রমাণের অপ্রতুলতা থাকে । কেউ যদি এখন বিশ্বাস করে এককোষী ব্যাকটেরিয়া থেকে হাতি উৎপত্তি হয়েছে অথবা মানুষ এর পূর্ব পুরুষ কোন এক চতুষ্পদ জন্তু ছিল - সে মানুষ ছিল না তাহলে একজন সভ্য মানুষ কি এসব ভুত প্রেত মার্কা কথায় অথবা এসব কাল্পনিক গপ্পে বিশ্বাস করবে ? উত্তর হচ্ছে না ।
স্রস্টা নেই, মানুষের আগের পূর্ব পুরুষ ছিল একটি চতুষ্পদ প্রাণী, মহাবিশ্ব এর আগে কি ছিল সেটা জানি না আমার বলছি স্রস্টা ছাড়াই এই মহাবিশ্ব নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছে , সমকামীতা ভাল, ফ্রি সেক্স ভাল , সম্মতি থাকলে নাস্তিক মায়ের সাথে ফ্রি সেক্স করাও বৈধ - এরকম হাজার হাজার দাবি নাস্তিক বিশ্বাসীরা করে থাকেন কিন্তু আমাদের কাছে এর স্বপক্ষে কোন প্রমান হাজির করা হয় নি । প্রমান হিসেবে দেখানো হয় যে কিছু গোঁজামিল মার্কা নাস্তিক বিজ্ঞানীদের বানীর কেতাব - যা আসলে সেগুলর পক্ষে প্রমান প্রমাণিত হয় না । "স্রস্টা নাই" যেহেতু এটি বিশ্বাস করতে হয় তাই এই সম্পর্কে বিশুদ্ধ যুক্তি প্রমান এবং সঠিক বিজ্ঞানীদের গবেষণা অপ্রতুল ।
পৃথিবীর সকলেই যদি স্রস্টা নেই, মানুষের আগের পূর্ব পুরুষ ছিল একটি চতুষ্পদ প্রাণী, মহাবিশ্ব এর আগে কি ছিল সেটা জানি না আমার বলছি স্রস্টা ছাড়াই এই মহাবিশ্ব নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছে , সমকামীতা ভাল, ফ্রি সেক্স ভাল , সম্মতি থাকলে নাস্তিক মায়ের সাথে ফ্রি সেক্স করাও বৈধ - এসবে বিশ্বাস করে তাহলেও এসবের অস্তিত্বের প্রমান হতে পারে না ।
প্রশ্নঃ এই মহাবিশ্ব তৈরিতে কোন স্রস্টা নাই , কারন বিজ্ঞানীরা বলছেন নিজে নিজেই এই মহাবিশ্ব হতে পারে । এখন ?
উত্তরঃ স্রস্টা নাই এটি একটি অন্ধ বিশ্বাস এবং হাইপোথিসিস । এর পক্ষে কিছু নাস্তিক বিজ্ঞানী গোঁজামিল দিলেও তাদের গোঁজামিল পুরা মিথ্যা প্রমাণিত করেছেন হাজার হাজার বিজ্ঞানী । তাই স্রস্টা নাই এবং মহাবিশ্ব নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে এর পক্ষে কোন প্রমান নাই , খগেন ধর্মের অনুসারীরাও এর পক্ষে প্রমান পেশ করতে পারেন না ।
প্রশ্নঃ নাস্তিক অনুসারীদের বিশ্বাসে অঘাত করা ঠিক নয় ?
উত্তরঃ সত্য কথা বললে যদি নাস্তিক অন্ধ বিশ্বাসীরা কষ্ট পায় তাহলে এর থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে তাদের সত্য গ্রহণ করার ক্ষমতা নাই অথবা তারা সত্যের রাস্তাকে ভয় পায় ।
এখন ধরুনঃ
* কোন নাস্তিক বিশ্বাস করে সে ইচ্ছা মত হাজার হাজার মেয়ের সাথে সেক্স করতে পারবে - এটি তার নাস্তিক ধর্মের শিক্ষা ।
* নাস্তিকরা বিশ্বাস করে তার আগের সবাই একটি চতুষ্পদ প্রাণী ছিল যাদের মধ্যে সভ্যতা ছিল না - এটি তার নাস্তিক ধর্মের শিক্ষা।
* নাস্তিকরা বিশ্বাস করে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু কেউই সৃষ্টি করে নাই - এটি তার নাস্তিক ধর্মের শিক্ষা ।
* নাস্তিকরা বিশ্বাস করে তারা নাকি সত্যবাদী অথচ ইসলাম নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে - এটি তার নাস্তিক ধর্মের শিক্ষা ।
* নাস্তিকরা বিশ্বাস করে নারীরা উলঙ্গ হয়ে ঘুরবে , এটি নারীর স্বাধীনতা - এটি তার নাস্তিক ধর্মের শিক্ষা ।
* নাস্তিকরা বিশ্বাস করে একজন নাস্তিক মা তার নাস্তিক মেয়ের সাথে সম্মতিতে লেসবিয়ান সোহবত করতে পারবে - এটি তার নাস্তিক ধর্মের শিক্ষা ।
আরকম হাজার হাজার বর্বর বিশ্বাস আইন নিয়ম কানুনের কথা বলতে পারি যেগুলা নাস্তিক ধর্ম শিক্ষা দেয় । আচ্ছা নাস্তিক অন্ধ বিশ্বাসীদের মিথ্যাচারের এবং বর্বর নোংরা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে, বিজ্ঞান দিয়ে , সত্য তুলে ধরে কথা বললে কি তাদের বিশ্বাসে আঘাত করা হবে বলে আপনার মনে হয় ? আপনি যদি একজন সভ্য মানুষ হন , আপনি যদি একজন যুক্তিবাদী এবং বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ হন তাহলে আপনি অবশ্যই বলবেন নাস্তিকদের বর্বর এবং অশ্লীল শিক্ষা থেকে জাতিকে মুক্ত করে একটি সভ্য সমাজ গড়তে হবে তাহলেই মানবতার জয় হবে , তাহলেই সত্য প্রকাশ হবে ।
প্রশ্নঃ আপনি কি নাস্তিক বিদ্বেষী ?
উত্তরঃ না । মিথ্যাকথা যারাই বলে ইসলামের নাম ব্যাবহার করে আমি তাদেরই সমালোচনা করি তবে প্রমান সহ । ইসলাম নিয়ে যারা জালিয়াতি করে তাদের সমালোচনা করি প্রমান সহ ।
প্রশ্নঃ খগেনিজম নিয়ে লেখেন কেন আর কোন বিষয় নাই ?
উত্তরঃ যার যে বিষয় গুরুত্বপুর্ণ মনে হয় সে সেই বিষয়ে লেখে, লিখবে। এটা লেখকের স্বাধীনতা। আপনাকে যেহেতু কেউ পড়তে বাধ্য করছে না, সেহেতু আপনি না পড়লে সেটাও আপনার স্বাধীনতা। ভাল না লাগলে আপনাকে কেউ মাথার দিব্যি দেয় নি পড়তে। এরকম কোন আইনও নেই যে, আমার লেখা আপনার পড়তেই হবে। না পড়লে ফাঁসি দেয়া হবে আপনাকে! আপনার গলায় কেউ চাপাতি রেখে পড়তে বাধ্য করছে না।
যাদের গল্প উপন্যাস ভাল লাগে, তারা সেটা নিয়ে লিখবে। যাদের রাজনীতি নিয়ে লিখতে ইচ্ছা তারা তা নিয়ে লিখবে। কেউ ফুল পাখী নিয়ে লিখলে তো জিজ্ঞেস করা হয় না, সারাক্ষণ ফুল পাখী নিয়ে কেন লেখে? যারা রাজনীতি নিয়ে সবসময় লেখে, কথা বলে, তাদেরও এরকম জিজ্ঞেস করা হয় না। নাস্তিক ধর্মের প্রশংসা করে যারা, তাদেরও কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে না শুধু নাস্তিক ধর্ম নিয়ে কেন লেখেন! শুধু নাস্তিক ধর্মের সমালোচকদেরই ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন করা হয়। তাই এই প্রশ্নটা যে নাস্তিক ধর্মের সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার ব্যর্থ কৌশল, তা বোঝা যায়। কিন্তু এভাবে হয় না। কেন ধর্ম নিয়ে লেখে, তা নিয়ে অভিযোগ না করে কোন বিশেষ লেখার বিপক্ষে শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরুন।
আর অন্যান্য বিষয়ে আপনি নিজেই লিখুন। অন্যে কেন অমুক বিষয়ে লিখলো না, এই অভিযোগ হাস্যকর। অন্যকে উপদেশ দেয়ার চাইতে আপনার নিজের লিখে ফেলাই উত্তম।
প্রশ্নঃ ইসলাম ধর্ম কেন প্রচার করেন ?
উত্তরঃ কারন ইসলাম সত্য ধর্ম আর অন্য দিকে নাস্তিকরা নাস্তিক ধর্ম প্রচার করে দুনিয়ার নাস্তিক নারী তথা বেশ্যা পাবার জন্য । কারন তারা নাস্তিক হলে তারা যার সাথে ইচ্ছা তার সাথেই সেক্স করতে পারবে সম্মতি থাকলে এখানে তাদের কেউই বাধা দিচ্ছে না। এর জন্যই খেয়াল করলে দেখবেন মাক্সিমাম নাস্তিক খগেন জার্মানিতে যায় । কারন সেখানে বিয়ে তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় না , সম্মতি আছে তো যার সাথে ইচ্ছা তার সাথেই আপনি সোহবত করতে পারবেন । আসলে এর জন্যই নাস্তিক অন্ধ বিশ্বাসীরা তাদের এই খগেনিজম ধর্ম প্রচার করে ।
আপনি আপনার নাস্তিক ধর্ম পালন করতে পারেন, আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হচ্ছে বান্দর ।এটি হচ্ছে আপনার বার্বিডল বা খেলার পুতুলের মত। আপনি সেটা নিয়ে বাসায় খেলবেন, তাকে পুজা করবেন কি তার গায়ে তেল মাখাবেন, দিনে বান্দর মতবাদ নিয়ে লাইভে এসে বক বক করবেন তার সামনে উপুর হয়ে সমকামীতা করবেন নাকি মাটিতে নাক ঘষবেন নাকি কপাল থাপড়াবেন, সেটা আপনার বিষয়। তা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমাকে এই বানর বিশ্বাসের প্রতি ডাকবেন না ।
আমাকে একে অনুসরন করতে বলবেন না । যখন আবার আপনি বলবেন যে আপনার এই বানর মতবাদই শ্রেষ্ঠ , আপনার ফ্রি সেক্স সব থেকে উত্তম, আপনার সমকামীতা ভাল, নাস্তিক ধর্ম আইন ভাল, এর থেকে ভাল আইন নাই তখন আমরা যাচাই করে দেখবো আপনার অন্ধ বার্বিডলটি আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের সমাজ, আমাদের অর্থনীতির উপরে কর্তৃত্ব করার উপযুক্ত কিনা। আর এই যাচাইয়ের সময় তার সমালোচনাটাও হবে কঠোর। তাই আপনি যদি আপনার নাস্তিক ধর্মকে বা খেলার পুতুল বিবর্তনবাদ, ফ্রি সেক্স, বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞান ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখেন, সেটাই সকলের জন্য ভাল।
প্রশ্নঃ নাস্তিক ধর্ম না থাকলে মানুষ নীতি নৈতিকতা কোথা শিখবে ?
উত্তরঃ ধরুন একজন আধুনিক মানুষ হিসেবে একজন মায়ের সাথে সেক্স করার জন্য তাঁকে বিছানায় নিয়ে যাওয়া আপনার জন্য খুবই নিন্দনীয় মনে হবে । কিন্তু নাস্তিক অন্ধ বিশ্বাসীরা তাদের জীবনে এই ফতোয়া হাজার বার দিয়েছেন যে মায়ের সাথে সেক্স হালাল কারন তারা তাদের সম্মতিতে সহবাস করতে পারবে । ধরুন আপনি এমন কোন নাস্তিক পুরুষের সাথে আপনার বোনকে বিয়ে দিবেন না যে ফ্রি সেক্সে বিশ্বাসী , যে লেসবিয়ান সোহবতে বিশ্বাসী ।
আপনার বিবেক, বুদ্ধি, আধুনিক মূল্যবোধ, আধুনিক ধ্যান ধারণা আপনাকে এইসব নাস্তিকিও বিশ্বাসের কাজ করতে বাধা দেবে। যদিও আপনি ভাবেন, নৈতিকতার একমাত্র মানদণ্ড আপনার নাস্তিক ধর্মটিই, তারপরেও আপনি আপনার বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।আপনি যখন বিবেক বুদ্ধি ব্যবহার করছেনই, তখন আপনার জন্য আসলে নাস্তিক ধর্মের নৈতিকতার শিক্ষা অগুরুত্বপুর্ণ।
নাস্তিক ধর্ম বলছেঃ
* মায়ের সেক্স হালাল ।
* সম্মতি থাকলে পিতার সাথে তার নিজ নাস্তিক মেয়ে সহবাস করতে পারবে এটি হালাল ।
* একজন নাস্তিক পরিবারের বাবা , মা , মেয়ে এবং ছেলে চাইলে তারা সম্মতিতে একত্রে ৪ জন সহবাস করতে পারবে এটিও হালাল ।
* বিয়ে ছাড়া আপনি যে কারো সাথে সহবাস করতে পারবেন এটিও হালাল ।
* নাস্তিক ভাই বোন সহবাস হালাল ।
আপনি বিবেক ব্যবহার করে সেগুলো করেন না। তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই বিবেকটুকু ব্যবহার করতে দোষ কোথায় নাস্তিক মশাই ? নৈতিকতা শিক্ষার জন্য নাস্তিক ধর্মের প্রয়োজন নেই। নাস্তিক ধর্ম আমাদের যেই নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, তা আধুনিক নৈতিকতার মাপকাঠিতে পুরোমাত্রায় নোংরামী। উপরের নাস্তিকিও বানী তো নিজেরাই পড়লেন , হয়ত কেউ বমি করে ফেলেছেন ।
নাস্তিক ধর্ম আমাদের শিখায় একজন মেয়ে ইচ্ছা করলেই রাস্তায় লেংটা হয়ে হাতটে পারবে , সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে এটি তার ব্যাক্তি স্বাধীনতা । নারীকে স্বাধীনতার নামে বিকিনি পরানো যাবে ।
নাস্তিক ধর্ম আমাদের শিখায় একজন মেয়ে ইচ্ছা করলেই রাস্তায় লেংটা হয়ে হাতটে পারবে , সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে এটি তার ব্যাক্তি স্বাধীনতা । নারীকে স্বাধীনতার নামে বিকিনি পরানো যাবে ।
নিজ নাস্তিক বাবার সাথে নাস্তিক ছেলে সমকামীতা করতে পারবে ইত্যাদি ইত্যাদি । এইগুলো কখনো সভ্য নীতিমালা হতে পারে না । এইগুলো আসলে একটি আদর্শ পরিবার ধ্বংস করার পয়তারা সমাচার । অপরদিকে মানুষের ভেতরেই প্রথিত থাকে কল্যানবোধ, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, যা নাস্তিক ধর্ম-জাতীয়তাবাদ-লিঙ্গের বড়াই ইত্যাদির কারণে চাপা পরে যেতে থাকে। ইসলামই জীবন বিধান মানুষের ঐ মৌলিক মানবিক বোধের বিকাশের কথা বলে, মানুষের ভেতরের নৈতিকতার কথা বলে, বিবেকের কথা বলে।
* সুরা বাকারা ২:১৯৫ = তোমরা নিজেদের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না আর মানুষের সাথে ভাল ব্যাবহার করো , নিশ্চয় আল্লাহ্ভাল ব্যাবহারকারীদের ভালবাসেন ।
* সুরা নিসা ৪:৩৬ = পিতামাতা, আত্মীয় স্বজন এতিম, অভাব গ্রস্থ, কাছের প্রতিবেশি, দুরের প্রতিবেশি, সঙ্গী-সাথী,মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস দাসীদের প্রতি উত্তম ভাল ব্যাবহার করবে । নিশ্চয় আল্লাহ্অহংকারীদের পছন্দ করেন না ।
* সুরা নিসা ৪:৫৮ = নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমানত সমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌছে দিতে ।তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার কাজ পরিচালনা করবে তখন ন্যায়-পরায়নতার সাথে বিচার করবে ।
* সুরা নিসা ৪:১৩৫ = হে ইমানদারগণ,তোমরা ইনসাফের উপর অটল থাকো এবং খুশিমনে আল্লাহ্র জন্য সাক্ষী দেও যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের বিপক্ষে হয় ।
* সুরা যারিয়াত ৫১:১৯ = ধনীদের ধন সম্পদে রয়েছে অভাব গ্রস্থ ও বঞ্চিতদের অধিকার ।
* জামে আত তিরমিজি, হাদিসঃ ১৯২২, সহিহ হাদিসঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন করে না তাকে আল্লাহ্ তা‘আলাও দয়া করেন না।
* জামে আত তিরমিজি, হাদিসঃ ১৯২৩, হাসান হাদিসঃ আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আবুল কাসিম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ শুধুমাত্র হৃদয়হীন, নিষ্ঠুর ও দুর্ভাগা মানুষের কাছ থেকেই রাহমাত ছিনিয়ে নেয়া হয়।
প্রশ্নঃ এই দন্দের শেষ কোথায় ?
উত্তরঃ পরিপূর্ণ সঠিক বাক-স্বাধীনতার চর্চা এবং বিরুদ্ধমতকে গ্রহণের মানসিকতা তৈরিই এই দন্দ শেষ করতে পারে। যুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি, মতের বিরুদ্ধে মত, প্রমাণের বিরুদ্ধে প্রমাণ, আলোচনা এবং সমালোচনার পরিবেশই এই দন্দ শেষ করতে পারে। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায় মুসলিমরা খগেনদের মিথ্যাচার ধরিয়ে দিলে তারা চ্যানেল রিপোর্ট করে , তারা মুসলিমদের আইডিতে রিপোর্ট করে এরমানে কি হল ?
মানে হল যে , খগেনরা চায় না মুসলিমরা সত্য যুক্তি তুলে ধরুক । অনেক নাস্তিক বিশ্বাসী নবী (সা) এবং ইসলাম নিয়ে যেভাবে গালাগালি করে এটি খুবই দুঃখ জনক । তারা যুক্তির বদলে যুক্তি দিতে পারে না , তারা তাদের নাস্তিক ধর্মের সত্যতার পক্ষে বিন্দুমাত্র কোন প্রমান দিতে পারে না , তারা নাদের নৈতিকতার বিশুদ্ধতার পক্ষে সাফাইও গাইতে পারে না , এক শব্দে তারা হল বর্বর যাদের সাথে সত্যের কোন সম্পর্ক নাই , বিন্দুমাত্রও নাই । এরা মুসলিমদের নাম ব্যাবহার করে নিজেরা আলাদা নাস্তিক ধর্মের নাম ধারন করার যোগ্যতা রাখে না ।
তাই আসুন সত্য গ্রহণ করি , সত্যকে মেনে নেই যদিও নিজের বিরুদ্ধে যায় তাহলেই এই দন্দ শেষ হবে জয় হবে সত্য জীবন বিধানের ।


: