প্যারাডক্সিকাল প্রশ্নের জবাব

Post a Comment
প্যারাডক্সিকাল প্রশ্নের জবাব

লিখেছেনঃ এম ডি আলী

প্রশ্ন ১/  সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে ?

উত্তরঃ সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন যিনি তিনি হলেন আমাদের স্রষ্টা । স্রষ্টাকে ছাড়া যা আছে তা সব কিছুই সৃষ্টি ।  স্রষ্টা আর সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য আছে । সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন এই প্রশ্নে মূলত ওমুকরা স্রষ্টা আর সৃষ্টির মধ্যে যেই তফাৎ সেটা বুঝতে না পারার কারনেই গুলিয়ে ফেলেছে । যদি জানত স্রষ্টা আর সৃষ্টি আলাদা তাহলে ছোট শিশুদের মত তারা প্রশ্ন করতো না ।

স্রষ্টা বলতে আমরা যা বুঝি অথবা যা মানি তা হলঃ
* স্রষ্টা এক
* তাঁর শুরু নেই , শেষেও নাই বা তাঁর সদৃশ কেউই নেই
* তাঁর সমকক্ষ কেউ নাই
* তিনি সর্ব শক্তিমান

এখন আসি মুল উত্তরের দিকে, সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে ? - দেখুন স্রষ্টার ক্ষেত্রে "সৃষ্টি" শব্দটি প্রযোজ্য না । কারন স্রষ্টাই যখন সব কিছু সৃষ্টি করেছেন তখন তাঁকে আবার কে সৃষ্টি করবে, যেহেতু স্রষ্টা হলেন তিনি যিনি সৃষ্ট নন ।

পয়েন্ট ১/ আপনি একটি লিখা লিখেছেন । যদি প্রশ্ন করি আপনাকে কে লিখেছে ? তখন ! আসলে এ প্রশ্নটি করা ব্যাকরণগত ভুল এবং ফাউল । কারন আপনি হলেন মানুষ । আপনাকে যদি কেউ লিখত তাহলে আপনি আর মানুষ হতেন না , আপনি "লিখা" হয়ে যেতেন । আপনি মানুষ আপনি লিখার ঊর্ধ্বে । আপনার ক্ষেত্রে লিখা শব্দটি প্রযোজ্য না তেমনি একইভাবে স্রষ্টার ক্ষেত্রেও সৃষ্টি শব্দটিও গ্রহনযোগ্য না । মানুষ ও লিখার মধ্যে যেমন তফাৎ বা পার্থক্য আছে তেমনি স্রষ্টা আর সৃষ্টির মধ্যেও আরও বেশি পার্থক্য রয়েছে ।

পয়েন্ট ২/ ধরেন আপনার নাম রহিম । এখন রহিম সাইকেল চালায় । প্রশ্ন করা হলঃ রহিমকে কে চালায় ? এ প্রশ্নটিও একইরকম ভুল । রহিমকে যদি কেউ চালাত তবে রহিম আর রহিম থাকতো না রহিম সাইকেল হয়ে যেত । ঠিক তেমনি স্রষ্টাকে যদি কেউ সৃষ্টি করতো তাহলে স্রষ্টা আর স্রষ্টা থাকতেন না, তিনিও সৃষ্টি হয়ে যেতেন । স্রষ্টা "সৃষ্টি" নন বলেই তিনি স্রষ্টা ।

পয়েন্ট ৩/ ধরেন আপনি ছবি একেছেন । যেমন , গাছের ছবি , সুন্দর নদ-নদী , ফুল, পাহাড়-পর্বত, শহর-গ্রাম ইত্যাদি ইত্যাদি । প্রশ্ন করা হল আপনাকে কে একেছে ? -খেয়াল করুন আপনাকে যদি কেউ আঁকত তবে আপনি আর মানুষ থাকতেন না আপনিও ছবি হয়ে যেতেন । বাস্তব মানুষ ও জড় ছবির মধ্যে যে পার্থক্য তেমনি স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে অনেক তফাৎ ।

পয়েন্ট ৪/  একটি তাসের সারি টোকা দেয়া হল । প্রত্যেক তাস একে একে পরে গেল । কেউ যদি প্রশ্ন করে প্রথম যে টোকা দিয়েছে সে কি তাস ? উত্তর হল, না । কারন যে তাসকে প্রথম টোকা দিয়েছে সে মানুষ, যে তাস না । স্রস্টাও প্রথমে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন তাঁকে কে সৃষ্টি করেছেন ? না তাঁকে কেউই সৃষ্টি করেননি কারন তিনি সৃষ্ট নন । 

পয়েন্ট ৫/ আপনি কম্পিউটারে বসে টাইপ করছেন । প্রশ্ন করা হল আপনাকে কে টাইপ করছে ? বুঝার চেষ্টা করুন যদি আপনাকে কেউ টাইপ করত তাহলে আপনি আর মানুষ থাকতেন না আপনি হয়ে যেতেন কিবোর্ড । একই ভাবে আপনার ক্ষেত্রে যেমন "কে টাইপ করেছে"  এই প্রশ্ন হাস্যকর তথা গ্রহনযোগ্য নয় একই ভাবে সবকিছুই স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন তাঁকে কে সৃষ্টি করেছে এই প্রশ্নটি গ্রহনযোগ্য নয় এবং এই প্রশ্নটি ভুল প্রশ্ন ।

পরিশেষে কথা হল ওমুক ভাইরা যা করে সেটা হল স্রষ্টা আর সৃষ্টিকে এক করে গুলিয়ে ফেলে যেটা মর্মান্তিক ভুল ।

প্রশ্ন ২/ স্রষ্টা যদি সর্ব শক্তিমান হয় তাইলে তিনি কি এমন কিছু বানাতে পারবে যা তিনি উঠাতে পারবে না ? প্রশ্ন কর্তারা এরপরে শর্ত জুড়ে দেয় যে এর জবাব হ্যাঁ অথবা না তেই দিতে হবে ।

উত্তরঃ কুযুক্তি মার্কা প্রশ্নের কোন উত্তর হয় না, এটাই সহজ উত্তর ও সোজা কথা ব্যাস । ওমুকরা বলে হ্যাঁ  অথবা না  এর মাধ্যমে উপরের প্রশ্নের জবাব দিতে । দেখেন, আপনার নাম কি ? এই প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ অথবা না দিয়ে কেউই দিতে পারবে না । তাহলে কোন লজ্জায় বলে যে উপরের প্রশ্নের জবাব হ্যাঁ বা না তেই দিতে হবে । আমার কথা হল সব প্রশ্নের উত্তর কি না অথবা হ্যাঁ তে দেওয়া সম্ভব । উপরের প্রশ্নেই মর্মান্তিক ভুল আছে আবার উত্তর এর ক্ষেত্রে  যেই শর্ত চাচ্ছেন সেটার অবস্থাও ভয়াবহ ।উদাহরণ সরূপ, কোন মানুষ একটি কাগজ তৈরি করলো এখন সে কাগজ যে তৈরি করেছে সে এই কাগজ অবশ্যই উঠাতে পারবে । কোন মানুষিক রোগী যদি প্রশ্ন করে তুমি এমন কাগজ বানাতে পারবে যা তুমি উঠাতে পারবে না ? - এই হাস্যকর প্রশ্নের জবাব হল তুমি আগে মানুষিক রোগের চিকিৎসা করাও । সামান্য একটি কাগজের ওপর মানুষের যে ক্ষমতা পুরো মহাবিশ্বের স্রষ্টা যিনি , মহাবিশ্বের স্রষ্টার মহাবিশ্বের ওপর আরও বেশি ক্ষমতা এটাই স্বাভাবিক, এটাই বাস্তব ।

প্রশ্নটিও অযৌক্তিক এবং বাস্তবতা স্ববিরোধী । ওরা আসলে সন্দেহ তৈরি করতে চায়, প্রশ্নের উত্তর জানা ওদের উদ্দেশ্য থাকে না । প্রাচিন আলেমরা নাস্তিকদের বাচ্চাসুলভ প্রশ্নের সকল জবাবই চমৎকার ভাবে দিয়ে গেছেন । আর কত !!! এরপরেও এই মানুষিক রোগীরা মানতে চায় না । একটি কথা মনে রাখবেন বেআদব,অহংকারী,মিথ্যুক,হিংসুক -মানুষদের সত্য বললে গ্রহন করতে চাইবে না । আর বেয়াদব অহংকারী সত্য হতে অনেক দূরে কারন তাদের ভিত্তিই মিথ্যা ওপর । এবার আসুন প্রশ্নের পোস্টমর্টেম করি ।

* আপনি কি এমন কিছু লিখতে পারবেন যা আপনি মুছতে পারবেন না ?
* আপনি কি এমন কিছু টাইপ করতে পারবেন যা আপনি ডিলেট করতে পারবেন না ?
* আপনি কি এমন ভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন যে আপনি সেটা ছাড়তে পারবেন না ?

মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন । আমার উপরের ৩ টি প্রশ্নের জবাব আপনি যদি হ্যাঁ দেন তাইলে না এর দিকে উত্তর চলে যাবে আবার না জবাব দিলে উত্তর হ্যাঁ এর দিকে চলে আসবে । আসলে এই ধরনের প্রশ্নে শব্দগত ধাঁধা থাকলেও বাস্তবে এর কোন নজীর নাই ।আপনি কোন কিছু লিখতে পারলে তা অবশ্যই আপনি মুছতেও পারবেন বা নষ্ট করতে পারবেন । আপনি টাইপ করতে পারলে সেটা অবশ্যই ডিলেট করতে পারবেন । আপনি নিঃশ্বাস নিলে তা ছাড়তেও পারবেন আর নিঃশ্বাস না ছাড়তে পারলে আপনি হবেন মৃত তখন আপনার ঐ প্রশ্নের অবস্থাও হবে মৃত্যু । আর লিখা মুছতে না পারলে আপনি হবেন দুর্বল তেমনি আপনার প্রশ্নটিও আসলে দুর্বল আর ডিলেট না করতে পারলেও আপনি হবেন অজ্ঞ আর আপনার প্রশ্নটিও অজ্ঞ জাতের হাইব্রিড ।

শব্দ গত ভাষা পেচিয়ে বাস্তবতা বিরোধী প্রশ্ন করে তারা মূলত প্রশ্নেরই অপমান করে । এগুলো প্রশ্নের মধ্যেই পড়ে না । স্রষ্টা যেহেতু সর্ব শক্তিমান তাই তিনি কোন বস্তু বানাতে পারলে সেটা অবশ্যই ধ্বংসও করতে পারবেন , তুলতে পারবেন যেমনি ভাবে আপনি কোন গাড়ি সৃষ্টি করতে পারলে সেটা অবশ্যই চালাতে পারবেন । গাড়ি বানাতে পারলে , চালাতে পারবেন না  এটা মানুষিক রোগী ছাড়া কেউ বলতে পারে নাহ। এরপরেও যদি তাদের লজ্জা থেকে থাকে তবে বলদ টাইপ প্রশ্ন হতে দূরে থাকবে আর যদি লজ্জা দেখা যায় না বলে মানি না তাইলে তাদের জন্য আমার শোঁক প্রকাশ !
হাজারো লজিকাল ফেলাসি প্রশ্ন বানানো যায় যার কোন জবাব হয় না । হ্যাঁ, একটি জবাব হয় তা হল লজিকাল ফেলাসি যুক্ত প্রশ্ন মূলত এর জবাবও হবে ফাউল প্রশ্ন । নিচের প্রশ্ন গুলা আমি ঐ ভাইদের কাছে ছেড়ে দিয়ে রাখলাম । উত্তর হ্যাঁ বা না তেই দিতে হবে ।

* নাস্তিকরা কি মানুষ হত্যা বন্ধ করেছে ?
* নাস্তিকরা কি ধর্ষণ, চুরি ,ডাকাতি করা বন্ধ করেছে ?
* আপনি কি এই রুমে দাড়াতে পারবেন যে অন্য রুমে দাড়াতে পারবেন না ?
* আপনি কি বৃষ্টিতে গসল করতে পারবেন যে আপনি ভিজতে পারবেন না ?

বর্ণিত প্রশ্ন গুলার জবাব হ্যাঁ দিলে না হয়ে যাবে, না দিলে হ্যাঁ হয়ে যাবে  । উপরের প্রশ্ন গুলা আত্মবিরোধ । হ্যাঁ বা না যাই জবাব দেওয়া হক না কেন তারা কচু গাছের সাথে ফেসে যেতে বাধ্য ।

উপরের জবাবের সারসংক্ষেপ হলঃ

* নাস্তিকদের প্রশ্নটিই আসলে ভুল ।

* স্রষ্টা যেটা বানাতে পারবেন সেটা ধ্বংসও করতেও পারবেন উঠাতেও পারবেন ।

* হ্যাঁ অথবা না দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় না ।

* একটি কাগজের উপরে মানুষের যেই ক্ষমতা আছে এরচেয়েও বেশি ক্ষমতা রাখেন এই মহাবিশ্বের উপরে স্রষ্টা কেননা তিনিই সব সৃষ্টি করেছেন ।


Related Posts

: