লিখেছেনঃ এম ডি আলী
মুল আলোচনায় প্রবেশ করার আগে সহজ একটি প্রশ্ন করি, পৃথিবীর সব কিছুই কি দৃশ্যমান বাস্তব ? উত্তর হল না । তাহলে দুনিয়াতে এমন অনেক বস্তু আছে , রয়েছে , থাকবে যা আমরা দেখি না , আমাদের দৃশ্যের বাইরে অর্থাৎ অদৃশ্য । অদৃশ্য মানেই যে এর অস্তিত্ব নাই এইটা অযৌক্তিক ।
আপনার সামনে দেওয়াল দিয়ে আমি যদি বলি , দেওয়ালের ও পাশে কি কি বস্তু রয়েছে সব আমাকে দেখান ? আপনি কিন্তু পারবেন না । কেন ? কারন আপনার দৃষ্টি দেওয়ালের ও পাশে যেতে পারে নাহ , এর মানে এই না যে দেওয়ালের সে পাশে কোন কিছুই নাই । যেটা বুঝাতে চাচ্ছি তা হল দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা । আমাদের দৃষ্টির মাঝে যদি কোন বাধা না থাকতো তবে আমরা দাবি করতে পারতাম "যা দেখি না তা বিশ্বাস করি না " - সভ্য মানুষ জানে এই দাবিটি মিথ্যা এবং ভুল ।
আচ্ছা , যার অস্তিত্ব আছে তার সবই কি আমরা চোখে দেখি ?
এখন এই জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগে দর্শনের চরম উন্নতির যুগে - এটা কোন যুক্তি না যে , যা বিশ্বাস করি তার সবই আমাদের চোখে দেখা লাগবে । প্রকৃত পক্ষে এমন অনেক কিছুই আছে যা আমরা বিশ্বাস করি অথচ বাস্তবে তা অদৃশ্য ।
* আমাদের দেহে শক্তি আছে যা, না দেখেও বিশ্বাস করি ।
* আমাদের ক্ষুধা লাগে, সুখ,দুঃখ,বেথা,অনুভূতি,আমরা যে চিন্তা করি,নারী পুরুষের মধ্যে "আকর্ষণ",আমাদের মন,অক্সিজেন,বায়ু , এ বায়ু পৃথিবীর গায়ে কিভাবে লেগে আছে তাও আমরা দেখি না কিন্তু বিশ্বাস করি অথবা মেনে নেই ।
* মধ্যকর্ষণ শক্তি আমরা দেখি না । চোখের সাহায্যে দেখি , কান দিয়ে শুনি তাই দৃষ্টি ও শ্রবন শক্তি না দেখেও বিশ্বাস করি অথচ তাঁর গোটা সৃষ্টিটাই স্রষ্টার অস্তিত্ব এর প্রমান বহন করে ।
সুতরাং যা দেখি না তা বিশ্বাস করি না এই ফাউল কথা দিয়ে উপরোক্ত বিষয়ে কেউ অস্বীকার করলে তার একমাত্র ঠিকানা হবে পাবনার হাঁসপাতাল কারন সেখানে অনেক ভাল ডাক্তার আছেন তাদের সুচিকিৎসায় এই টাইপের মানুষিক পাগলরা সুস্থ হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী ।
আমাদের জীবনে এমন অনেক বিষয় আছে , রয়েছে যা শুদু আমরা সাক্ষ্য দ্বারাই বিশ্বাস করি,যদি সেই সাক্ষ্যদাতা সত্যবাদী হয় ।
আগের কালের যে বড় বড় ইতিহাস বা ঘটনা আছে তা আমরা বাহ্যিক ভাবে না দেখলেও , অদৃশ্য হওয়া সত্তেও সাক্ষ্য এর ওপর ভিত্তি করে আমরা না দেখে ইতিহাস বিশ্বাস করি ।
আমরা জানি , কাল ৩ প্রকার । অতিত কাল , বর্তমান কাল ও ভবিষ্যৎ কাল । অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল আমাদের কাছে অদৃশ্য আর দৃশ্যমান হল বর্তমান কাল । অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল আমরা অনুভব করি যদিও উভয়ই অদৃশ্য । হয়ত বলতে পারেন অতীত কাল ত আমি দেখছি কারন আমার সাথে এমন কিছু ঘটেছে যা অতীত - এখন আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি আমিত দেখি নাই আপনার অতীত , এখন আপনার অতীত কাল আমাকে দেখান বাস্তবে ? (ভিডিও দেখালে হবে না কারন ঐসব এডিট করা যায়!)
কেউ কি তার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার বাপের অস্তিত্ব প্রমান করতে পারবে ? না । যেই নাস্তিক নিজের দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার বাপের ছেলের ছোট নাতির অস্তিত্বই প্রমান করতে পারে না সেই মুক্তমনা নাস্তিক ধর্মের অন্ধ বিশ্বাসী যখন বলে আল্লাহকে দেখাও - তখন কি মনে হয় আপনার !!!
বিজ্ঞানী নিউটন এর মাথায় আপেল পরেছিল , এরপরে গবেষণা করে মধ্যকর্ষণ শক্তির আবিষ্কার করেন । কিন্তু বর্তমানের প্রজন্মের কোন নাস্তিক কি ঐ ঘটনা বাস্তবে দেখেছে ? না দেখেনি আর মদ্ধকর্ষণ বল কেমন তাও দেখি নি । না দেখে ইমান আনল , নিউটনের যে পিকচার পাওয়া যায় সেটা যে তার নিজেরি ছবি এর প্রমান কি ? নাস্তিকরা এর প্রমান দিতে পারবে না । এরপরেও বিশ্বাস করে । একই ভাবে যত বিজ্ঞানী গত হয়েছে তাদের লিখিত বই, গবেষণা , তাদের পরিক্ষা নিরিক্ষা, ইত্যাদির প্রমান আমরা সবাই বাস্তবে দেখি না কিন্তু বিশ্বাস করি ।
হিরোশিমা নাগাসাকিতে যে ক্ষতি হয়েছিল , পরমাণুর দ্বারা আমরা দেখি নাই ও এটম বোমার যে শক্তি তাও আমরা না দেখে বিশ্বাস করি ।
নিজের বাবাকে বিনা প্রমানে বাবা ডাকেন । প্রশ্ন হল DNA মিলালেই তো প্রমান হয় ? কিন্তু কয়জন নাস্তিক বলে বা প্রমান করেছে যে এটাই আমার বাবা । কত ভাগ নাস্তিক এই প্রমান সহ বাবা কে বাবা ডাকেন ? । হাস্যকর হলেও সত্য যে , নাস্তিকদের প্রমান চাওয়ার ধরন হল, এরা ভিডিও না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করবে না ওদের বাবা কে !!! সভ্যতার একটা লিমিট আছে তো নাকি !
পুরো দুনিয়ায় কোর্টের বিচারক কি করে নিজে কাউকে খুন করতে না দেখে সাক্ষীর কথার ওপর ভিত্তি করে একটা মানুষকে ফাঁশি দিতে পারে ?? আর দুনিয়ার সব আদালত সাক্ষীর ওপর ভিত্তি বা নির্ভরশীল ।সত্য সাক্ষ্য ছাড়া বিচার বিভাগই অচল । নাস্তিকরা কি বলবে এ পদ্ধতি অযৌক্তিক ? নাস্তিকরা ভাল করেই জানে এটি অযৌক্তিক না । যদি বলে অযৌক্তিক তবে ওদের নাস্তিক ধর্মের ভণ্ডামি সবার সামনেই খুলে যাবে ।
দুনিয়াতে এত কিছু না দেখে বিশ্বাস করার পরেও এলারজি যখন ইসলামে । হযরত আদম (আ) থেকে শুরু করে শেষ নবী হযরত রাসুল (সা) সবাই বলেছেনঃ আল্লাহ আমাদের সত্য মালিক । মরার পরে আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে, জবাব দিতে হবে , ভাল কাজের ফল জান্নাত , খারাপ কাজের ফল জাহান্নাম । নবী রাসুলগন সবাই ছিলেন খাটি সত্যবাদী । তাঁদের পরে অন্য কেউ এত সত্যবাদী হতেই পারে না । কল্পনাও করা যায় না, যদিও কল্পনা করাও অদৃশ্য! নবী রাসুলদের সত্য সাক্ষ্য থেকে প্রমানিত যে আল্লাহ সত্য এবং তাঁকে বিশ্বাস করাও সত্য তাঁকে সত্য বলে মেনে নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ । আর ইসলাম যে অদৃশ্য বিষয়ের ওপর ইমান আনতে বলেছে তাও সত্য ।
হে নাস্তিক সাহেব বিবেককে প্রশ্ন করো, ভাবো সত্য কে খুজে নেও.......


: