স্রষ্টাকে মানবো কি মানবো না ?

Post a Comment
স্রষ্টাকে মানবো কি মানবো না ?

লিখেছেনঃ এম ডি আলী

মুক্তমনা নাস্তিকদের একটি ভিত্তি হল বস্তুবাদ । বস্তুই সব । বাস্তবতা ছাড়া যা আছে সবই অবাস্তব ও প্রমানিত না আর স্রষ্টাকে না মানার কারন এর মধ্যেই অন্যতম কারন হল এই বস্তুবাদ । স্রষ্টাকে দেখা যায় না তাই নাস্তিকরা তাঁকে মানে না । অর্থাৎ বুঝা যাচ্ছে যে, দেখা যায় না তাই মানি না বা বিশ্বাস করি না ।

এখন আমাদের বুঝতে হবে , আমাদের দৃষ্টি ১০০% রিলেবল কিনা ? অবশ্যই না , কারন প্রচুর তীব্র রোদে খালি চোখে সূর্যের দিকে ১০ সেকেন্ড তাকাতে আমরা পারি না , আমরা অন্ধকারে দেখতে পাই না । আমরা বিনা সাহায্যে আমাদের কপালটা পর্যন্ত আমরা দেখতে পারি না । এছাড়া আমাদের জ্ঞান, বিবেক, বুদ্ধি , চিন্তা করার ক্ষমতা এমন অনেক কিছু আছে  যা "বাস্তবে" দেখি না তবে মানি অথবা বিশ্বাস করি । প্রমানিত হল যে আমাদের চোখ ১০০% রিলেবল না ।
নাস্তিকরা যুক্তি মানে । তারা বিশ্বাস করেনা কোন কিছুই । তাহলে এখানে আমার একটি প্রশ্ন মনে উদয় হয় তা হল নাস্তিকরা যে কোন কিছুই বিশ্বাস করে না, এই কথার উপর তাদের বিশ্বাস আছে কিনা ? যদি বলে হ্যাঁ তাহলে তারাও বিশ্বাস করে আর যদি বলে না তাহলে তো তাদের নাস্তিক ধর্মে তাদের নিজেদেরই বিশ্বাস নাই আবার আমাদের কেন নাস্তিক ধর্মের দাওয়াত দেয় ! নাস্তিকদের কাছে এটি কমন কথা যে যুক্তিতেই মুক্তি । নাস্তিকদের কাছে যুক্তি হল সম্পূর্ণ । এখানে নাস্তিকরা একমত ।

এখন যুক্তি যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না সেটাই প্রমান করব । যুক্তি দেওয়া যাবে না আমি তা কিন্তু বলছি না । আমার কথার ভুল বুঝবেন না ।

আমরা যখন ম্যাজিক দেখি তখন আমরা আনন্দিত হই , কেন ? কারন যাদুকর কিভাবে কৌশল করে তার জাদুটি দেখায় , সেটা আমাদের অজানা বা আমরা ঐ সময় বুঝি না , জাদুর আসলে সূত্রটা কি ?

যাদুকর দেখাবে যে , বড় একটি রশি সাপ হয়ে গেছে , কিন্তু এখানে একটি কৌশল আছে , সুত্র আছে যা আমরা জানি না - তাই আনন্দিত হই ।কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে রশি সাপ হতে পারে না কিন্তু দেখা গেল যুক্তি ফেইল করেছে যখন আমরা দেখলাম রশি সাপ হয়েছে  । দেখা গেল যুক্তি ফেইল করে যখন আমাদের অজানা থাকে । কিভাবে করা এল সেটা আমরা জানি না তাই অবাক হই । জানানোর মালিক ঐ সময় একমাত্র যাদুকর । সুতরাং যখন দেখছি রশি সাপ হয়ে গেল আর যুক্তি আমাকে বলছে না এটা সম্ভব না , ঐ কৌশল আমি জানি না তখন আমার যুক্তি ফেইল করেছে অর্থাৎ এখানে যুক্তি ফেল করেছে এখানে যুক্তি লিমিটেড । এতে বুঝা গেল যুক্তি ১০০% সম্পূর্ণ না ।

উপরের উদাহরণ থেকে আমি যা বুঝাতে চাইলাম তা হলঃ

আল্লাহ বলেন, এইটা সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই , যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। (সুরা বাকারা ২-৩)

সুতরাং , অজানা যে বিষয়টি সেটা আল্লাহর কাছে  , আমরা তা জানি না । আমাদের যুক্তি ফেল , দৃষ্টি ফেল কারন এগুলা পারফেট না । আর আল্লাহ স্রষ্টা হলেন পারফেট । তাই ইনপারফেট কিছু দিয়ে পারফেট- কে সম্পূর্ণ জাজ করা বাচ্চাময়ি বোকামি ।পারফেট জিনিস দিয়ে পারফেট কিছুকেই জাজ করা যায় কিন্তু ইনপারফেট দিয়ে পারফেটকে মাপা যায় না ।

প্রশ্ন করতে পারেন, যাদুর যে উদাহরণ দিয়েছি, সেই যাদুর পিছনে অবশ্যই যুক্তি আছে তাই যুক্তি পারফেট , হয়ত আমরা এখন জানি না যাদুর কৌশল কি কিন্তু পরে যাদুকর আমাদের বলবে ?

=যদি আপনার যুক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণ হত তাহলে তখনই হত যাদু যখন দেখানো হয়েছে তথা রশি সাপ হয়ে গেল ! তাই যুক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণ তথা পারফেট না । যাদু দেখে আনন্দিত হওয়ার কারন যুক্তি তখন ফেইল করে , আপনি যেমন যাদুর রহস্য পরে জানতে পারবেন , এর পিছনে কি যুক্তি আছে  একই ভাবে আল্লাহ কোরানেও সব রহস্য প্রকাশ করেছেন , শুদু একটু নিরপেক্ষ বিবেক দরকার !

আমাদের দৃষ্টি হল পার্ট অব নেচার , তাই আমাদের ব্রেন দিয়ে যতটুকু যাবো আর আমাদের ব্রেনও পারফেট না । আমাদের দৃষ্টি ইনপারফেট , আমাদের ব্রেন, আমাদের স্কিন , আমাদের মগজ, আমাদের বিজ্ঞান সব কিছুর সন্নিবেশনে আমাদের আরেক তৃতীয় শক্তি আছে , যেটা আমাদের ইন্দ্রিয় এর বাইরে সেটা হল অনুধাবন শক্তি । আমাদের অনুধাবন শক্তি দিয়ে অনেক দুরের বিষয়কেও আমরা খুজে বের করতে পারি । যেহেতু আর কোন সুত্র নেই, তথ্য নেই , যুক্তি নেই আর স্রষ্টা ছাড়া আমাদের আর দ্বিতীয় সুস্থ কোন আর্গুমেন্ট নেই যে , সে স্থান পূরণ করার । আমরা জানি আল্লাহ সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন যেহেতু সৃষ্টি আছে এর স্রষ্টা থাকাই বাস্তব সম্মত ব্যাখ্যা স্বাভাবিক । আর স্রষ্টা অবর্তমানে তাঁর স্থান কেউ পূরণ করতে পারে না বা পারছে না তাই একটাই সুস্থ সমাধান আর তা হল স্রস্টাই আমাদের একমাত্র প্রমান । তাই অনিচ্ছা সত্তেও সৃষ্টিকর্তা আমাদের একমাত্র সমাধান ।

যেমন, ০+০+০= ১ এটি সম্ভব না । মানে ভুল । ০ থেকে যেমন ১ হওয়া ভুল তেমনি শুন্য থেকে আমাদের এই মহাবিশ্ব কথা থেকে এল ? পদার্থ বিজ্ঞানের সুত্র গুলো কথা থেকে এল , এলোই বা কেন ? বিগব্যাংকই বা হল কেন ?  ০ থেকে কারো সাহায্য ছাড়া এই গুলা হওয়া ভুল । সুন্দর জবাব হলঃ স্রষ্টাই এইগুলা সৃষ্টি করেছেন বা প্রকাশ করেছেন আর এটাই আমাদের অনুধাবন শক্তির বহিঃপ্রকাশ।

এমন অনেক বিষয় আছে যার বাস্তব প্রমান নাই কিন্তু এরপরেও নাস্তিকরা তা মেনে নায় তা হলঃ

* নিউটনের মাথায় আপেল পরেছিল , কোন নাস্তিক কি বাস্তবে এটি দেখেছে ? উত্তর হল না ।

* যত বিজ্ঞানী আগে বিজ্ঞান বিষয়ক বই লিখেছেন , বইতি যে তিনিই লিখেছেন এর কি কোন বাস্তব প্রমান কোন নাস্তিক দেখাতে পারবেন যে তিনিই লিখেছেন সে বই ? নাস্তিকরা এখানে না দেখে এই সব মেনে নেয় কিন্তু !

* আগের কালের যত ইতিহাস আছে তা আমরা বাস্তবে না দেখেও মেনে নেই আর অনুধাবন করেই কিন্তু ভবিষ্যৎ কাল ! যাদের অনুধাবন নাই বা অনুধাবন শক্তি নেই তারা ভবিষ্যৎ কাল মানতেই পারে না । খাঁচ বাংলায় ওরা 'পাগলা জাতের হাইব্রিড" !

ফেসবুকে এক নাস্তিক লিখেছিল,

যখন আমাকে কেউ প্রশ্ন করে, স্রষ্টা কি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন ? তখন আমি বলি, এই প্রশ্ন করাটাই অর্থহীন কারন Bigbang এর আগে সময় এবং স্থানের কোন অস্তিত্ব ছিল না । তাই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে কোন স্রষ্টার প্রয়োজন নেই । তারপরেও যদি কেউ বলে সৃষ্টিকর্তা আছে  তাহলে তার কাছেই আমার প্রশ্ন কোন স্থানে বসে, কোন সময়ে স্রষ্টা এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন ?

আমি তার লিখার জবাবে লিখেছিঃ তোমার সাথে এই বিষয়ে কথা বোলব আসো । বিজ্ঞান যদি অংক মানে তাহলে ০+০= ১ এটি যদি সত্য না হয় তাইলে ০ থেকে এতকিছু - এটি কোন লজ্জায় বোলো । শরম লাগে না। তোমার কাছে আমার প্রশ্ন, Bigbang এর আগে কিছু ছিল না এটি আমাকে বাস্তবে দেখাও ? তোমার মাথায় যে জ্ঞান আছে  এটি দেখতে কেমন ? এই জ্ঞান তোমার মাথায় ঠিক কথায় বসে আছে নাকি শুয়ে আছে আমাকে বস্তবে দেখাও ? আল্লাহ্‌ কথায় আছেন কি করছেন এইসব জানতে চাচ্ছ অথচ তাঁর সৃষ্টির এমন কোটি কোটি বিষয় আছে যা আমরা নিজ চোখ দিয়েই দেখি না ।

(এরপরে সে আমাকে Lawrence Krauss এর উক্ত বিষয়ে একটি ভিডিও লিংক দিল । মজার ব্যাপার হলঃ আমি ওকে পাল্টা লিংক দিলামঃ (  https://www.youtube.com/watch?v=uSwJuOPG4FI  ) নাস্তিকদের পির লরেন্স ক্রাউস কে , হামজা জরৎজিস অনেক আগেই ডিবেটে সবার সামনে নাস্তানাবুদ করেছিল । বেচারা প্রমান করতে পারে নি যে Bigbang  এর আগে সময়, ছিল না ০ থেকে এগুলা আইলো কেমনে )

সে নাস্তিক বললঃ নাস্তিকরা বলে না স্রষ্টা নাই । তারা বলে স্রষ্টা এর কোন প্রমান ধর্মের কাছে নাই । যেহেতু আপনারাই স্রষ্টার অস্তিত্ব এর দাবি করেছেন তাই প্রমান করার দায়ভার আপনাদের ।

আমি লিখলামঃ ঠিক তেমনি সেই দাবি তোমরা করেছ, একই দাবি আমরা করলাম । স্রষ্টা নেই এই দাবি তোমরা করেছ তাই একই ভাবে এর দায়বার তোমাদের । তুমি কিন্তু এখনো এর সমাধান করোনিঃ  Bigbang এর আগে কিছু ছিল না এটি আমাকে বাস্তবে দেখাও ? তোমার মাথায় যে জ্ঞান আছে  এটি দেখতে কেমন ? এই জ্ঞান তোমার মাথায় ঠিক কথায় বসে আছে নাকি শুয়ে আছে,আমাকে বস্তবে দেখাও ?

(এরপরে ত্যানাপেঁচানো ছাড়া কোন বাস্তব প্রমান সে দেখাতে পারেনি আর এমন কোন নাস্তিক এর জন্ম হয়নি যে ঐ প্রশ্নের সমাধান দিবে)

এখন কেউ মানুক আর  না মানুক সেটা তার ব্যাপার । পরিশেষে বোলব নাস্তিক ধর্ম বিশ্বাস দিয়ে দুনিয়াতে প্রাপ্তির কিছুই নেই ! ভাবো তুমি ভাবতে থাকো !

আমার উপরের লেখার সারসংক্ষেপ মুল বক্তব্য হল

* যুক্তি দিয়ে আপনি সব কিছুইকেই জাজ করতে পারবেন না ।

* স্রষ্টার অস্তিত্ব মেনে নেওয়া ছাড়া এই মহাবিশ্ব কোন ভাবেই আপনি ব্যাখ্যা করতেই পারবেন না ।

* অনুধাবন শক্তি দিয়ে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করা যায় ।

* শুন্য থেকে কোন কিছুই নিজে নিজে আসতে পারে না এটা অবাস্তব ।

* আল্লাহ্‌কে দেখতে চায় অথচ তাঁর সৃষ্টির এমন অনেক নমুনা আছে যে দেখা যায় না অথচ আমরা সেটা মেন নেই এমনকি বিশ্বাসও করি ।


ভাবতে থাকুন আমরা সামনে থেকে ঘুরে আসি...............   



Related Posts

: